টাকা-স্বর্ণালংকারের জন্য খুন হন ইডেন অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী

ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি- স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকার লোভে গৃহকর্মীরা ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভিনকে খুন করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক গৃহপরিচারিকাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান সন্দেহভাজন আরেক গৃহকর্মীকে খুঁজছে পুলিশ।

১৪ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনার মদনধোয়া এলাকা থেকে স্বপ্না ওরফে মিতা আক্তার এবং রাজধানী থেকে কাজের মহিলা সরবরাহকারী রুনা ওরফে রাকিবের মাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ওই বাড়িতে খোয়া যাওয়া একটি সোনার চেইন এবং নগদ টাকা।

১০ ফেব্রুয়ারি বিকালে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা। ঘটনার পর তার স্বামী বাদি হয়ে নিউ মার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সেখানে তার বাসার দুই কাজের মহিলার নাম উল্লেখ করেন এবং সন্দেহভাজন একজনকে রাখা হয়।

শুক্রবার দুপুরে রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানান।

মারুফ সরদার বলেন, খুন হওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা জানতে পারি তারা বাসার তিনজন গৃহকর্মীর মধ্যে দুজন উধাও। এ ছাড়া আলমারি থেকে খোয়া গেছে মূূল্যবান জিনিসপত্র। বাসায় কাজের মহিলাদের যে ঠিকানা ছিল তা ছিল ভুল। পরে যে নারী তাদের সরবরাহ করেছিল তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনার মদনধোয়া এলাকা থেকে স্বপ্না ওরফে মিতা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সে স্বীকার করেছে।

এই মামলার আরেক আসামি রেশমা ওরফে রুমাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, তার যে ঠিকানাগুলো দেওয়া ছিল সব ভুল। তার কোনো তথ্য নেই কারও কাছে। তার সম্পর্কে কেবল অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী জানতেন।

রেশমা ওরফে রুমা ও অধ্যক্ষ মাহফুজার মধ্যে কখনো মোবাইল ফোনের ব্যবহার হয়নি জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তাই টেকনোলজি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। রুমাকে ধরতে ম্যানুয়াল প্রযুক্তিতে পুলিশ কাজ করছে।

হত্যাকান্ডের মুটিভ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকার লোভে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে অনেক তথ্য বলা সম্ভব নয়। এই ঘটনার মূল আসামি গৃহপরিচারিকা রেশমা ওরফে রুমাকে পুলিশ খুঁজছে বলে জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে রাজধানীবাসীকে কোনো কাজের লোক নেওয়ার সময় তার সব তথ্য সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করার বিষয়ে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান উপ-পুলিশ কমিশনার।

সূত্র; ঢাকাটাইমস

এমএ/ ১১:২২/ ১৫ ফেব্রুয়ারি