ব্রিটেনে ফেরত আনা হবে না আইএসে যোগ দেয়া শামীমাকে

লন্ডন, ১৬ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেছেন, দেশটিতে ফিরতে চাওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগমকে সিরিয়া থেকে উদ্ধার করা হবে না। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি শরণার্থী শিবির থেকে দ্য টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যে ফেরার ব্যাপারে শামীমা আগ্রহ প্রকাশের পর ব্রিটিশ নিরাপত্তামন্ত্রী এই মন্তব্য করলেন।

কর্মের ফলভোগ করতে হবে উল্লেখ করে বেন ওয়ালেস বলেন, ব্রিটিশদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে এমন জঙ্গি বা সাবেক জঙ্গিদের খুঁজতে যাবেন না তিনি।

শামীমার ব্যাপারে একই ধরনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ। তিনি বলেন, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সিরিয়ায় পাড়ি দেয়া শামীমা বেগমকে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসতে দেয়া হবে না।

সাজিদ জাভেদ বলেন, আমার বক্তব্য পরিষ্কার। বিদেশি সন্ত্রাসী সংস্থাকে যদি আপনি সমর্থন করেন, তবে আপনার প্রত্যাবর্তন আমি প্রতিরোধ করব।

তিনি বলেন, ১৯ বছরের শামীমা বেগম যদি ফিরে আসেন, তবে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যিনি আইএসে যোগ দিতে ব্রিটেন ত্যাগ করেছিলেন, তিনি আমাদের দেশকে পুরোপুরি ঘৃণা করেন। এখন যদি তিনি ফিরতেই চান, তবে তাকে প্রশ্ন, তদন্ত ও সম্ভাব্য বিচারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। গুরুতর হুমকি এসব নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাজ্য।

দ্য টাইমসের সাংবাদিক অ্যান্টনি লয়েডকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শামীমা বলেন, তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এখন যেকোনো দিন তার সন্তানের জন্ম হতে পারে। এর আগে অপুষ্টি আর রোগে ভুগে তার দুই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। নবাগত সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরতে চান। তবে আইএসে যোগ দেয়ার জন্য তিনি অনুতপ্ত নন বলে জানান।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্রিটেনের বেথনাল গ্রিন অ্যাকাডেমির যে তিনজন ছাত্রী পালিয়ে সিরিয়া গিয়ে আইএসে যোগ দিয়েছিলেন শামীমা তাদেরই একজন ছিলেন। তখন পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দা শামীমার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া অপর দুজন স্কুলছাত্রী ছিলেন খাদিজা সুলতানা (তিনিও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত) ও আমিরা আবাসে।

ওই সময় তারা তিনজন গ্যাটউইক বিমানবন্দরে থেকে বিমানে চড়ে তুরস্কে যান এবং পরে সেখান থেকে তুরস্কের সীমান্ত পাড় হয়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করেন।

এমএ/ ০০:১১/ ১৬ ফেব্রুয়ারি